শনিবার, মার্চ ২, ২০২৪

ঈদের ছুটিতে প্রকৃতি কন্যা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্কে পর্যটকদের ঢল নেমেছে,

আপডেট:

মোঃ জাকির হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শনিবার (২২এপ্রিল) মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকা ভরে উঠে পর্যটকের পদচারণায়। ফলে এখানকার ব্যবসায়ী, ইজারাদারসহ সবার মুখে ফিরেছে তৃপ্তির হাসি। ঈদের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্কে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে পর্যটকরা প্রবেশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরেজমিন মাধবকুন্ড ইকোপার্কে প্রবেশের আগে সড়কে প্রায় এক কিলোমিটার যানজটের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে যানজট নিরসনে কাজ করছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় পৌঁছার পর বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিভিন্ন পণ্যের দোকান, খাবার হোটেলগুলোতেও ভিড় জমে। জলপ্রপাত এলাকায় প্রবেশের পর দেখা গেছে মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দল বেঁধে মাধবকুন্ডের জলে নেমে হইহুল্লোড় আর আনন্দ-উল্লাসে মেতেছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। কেউ কেউ ঝর্নার জলে সাঁতার কাটে আবার অনেকে পাশে দাঁড়িয়ে প্রায় ২০০ ফুট ওপর থেকে অবিরাম ঝর্নার জলপতনের দৃশ্য ও আশপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগে ব্যস্ত থাকেন। স্মৃতি ধরে রাখতে এসব দৃশ্য তারা ক্যামেরা বন্দি করেন।
স্বজনদের নিয়ে মাধবকুণ্ডে বেড়াতে আসা পর্যটক এডভোকেট আজিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, সজিব রায়, বলেন, ঈদ উপলক্ষে মাধবকুণ্ড দেখতে আসলাম। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসেছেন। সবাই আনন্দ উপভোগ করছেন। আমাদেরও ভালো লাগছে। এখন বৈশাখ মাস বর্ষার সময় বৃষ্টিপাত হলে ঝর্নার মূলধারায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। এখানে এসে জলপ্রাপাত ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য,খাসিয়াপুঞ্জি এবং চা বাগান মানুষকে আকৃষ্ট করছে, তৃপ্তি দিচ্ছে।
দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সাংবাদিক কল্যাণ প্রসুন চম্পু বলেন, প্রচন্ড গরমের মধ্যে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের শীতল পানিতে একটু প্রশান্তির নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকের এখানে ছুটে এসেছেন।
মাধবকুণ্ড জলপ্রভাতের ইজারদার মেহদী হাসান কবির বলেন,গত করুনাকলীন সময়ে পর্যটন শিল্পের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ ঈদে পর্যটকদের পদচারণয় মাধবকুণ্ড আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
মাধবকুন্ডে ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে থাকা অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান বলেন, ঈদের দিন পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে। প্রায় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। এছাড়া আমরা মাধবকুণ্ডে ভ্রমণে আসা কিশোরদের মাদক সেবন, ইভটিজিং ও অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতন করছি।
বড়লেখা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস জানান, ঈদের দিন শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্তরা দলবেঁধে ভেতরে প্রবেশ করেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, বনবিভাগ ও ইজারারের লোকজন কাজ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত