শনিবার, মার্চ ২, ২০২৪

শিক্ষকের প্রতি অনন্য সম্মানে ভাইরাল অতিরিক্ত ডিআইজি, খন্দকার ফরিদুল ইসলাম,

আপডেট:

মোঃ জাকির হোসেন স্টাফ রিপোর্টের

একটি সামাজিক সংগঠনের বৃক্ষ রোপণ অনুষ্টানে শিক্ষককের প্রতি সম্মান প্রদর্শণ করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে না বসে নেট দুনিয়ায় রীতিমত ভাইরাল বাংলাদেশ পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি। ঘটনাটি ঘটে গত ০৪/০৭/২০২৩ খ্রিঃ তারিখ মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার জুড়ী মানবিক সোসাইটি ১ হাজার গাছের চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানের স্থান ছিল জুড়ী জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রধান অতিথি হিসাবে ৭আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সিলেট এর অধিনায়ক, অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আসলে প্রধান শিক্ষক জনাব রতীশ চন্দ্র দাস উনার চেয়ারে বসার জন্য অনুরোধ করেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জনাব বদরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকগনও প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসার জন্য অনুরোধ করলে অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার ফরিদুল ইসলাম সবার অনুরোধ প্রত্যাখান করে বলেন ”এটা শিক্ষকের চেয়ার এই চেয়ারে আমি বসতে পারি না, এটা উচিত না”। পাশের আরেকটি চেয়ারে তিনি বসতে গেলে প্রধান শিক্ষক আবারো অনুরোধ করে বলেন “এখানে আপনি পদমর্যাদা ও সম্মানের দিক থেকে আপনি সবার সিনিয়র তাই আপনি বসেন”। প্রদুত্তরে তিনি “আমি যত বড় অফিসার হইনা না কেন শিক্ষক তো শিক্ষক” বলে তিনি পাশের আরেকটি চেয়ারে বসেন। এত বড় পর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও অতি সাধারন একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকে যে সম্মান প্রদর্শন করলেন তা উপস্থিত সবাইকে অবাক করে এবং সাথে সাথে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষককে সম্মানের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বৃক্ষ রোপণ অনুষ্টানের আয়োজক জুড়ী মানবিক সোসাইটির অন্যতম কর্নধার মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন” মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকগণ যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী তারই প্রমাণ দিয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি মহোদয়। শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারার মধ্যেই প্রকৃত স্বার্থকতা রয়েছে সেটাই এ থেকে প্রতীয়মান হয়। যা থেকে সকলের শিখার আছে”।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ইউপি সদস্য সাংবাদিক জাকির হোসেন মনির বলেন “চোখের সামনে এমন ঘটনা আমাদের অবাক করেছে। অতিরিক্ত ডিআইজি মহোদয় অনেক বড় মনের মানুষ। শুধু শিক্ষককে সম্মান নয় পুরো অনুষ্ঠানে তিনি সবার সাথে যেভাবে ব্যবহার করেছেন, যেভাবে কথা বলেছেন তাতেই তিনি প্রমান করেছেন তিনি কত মহৎ মানুষ। ব্যবহার বংশের পরিচয় এটা তো আর এমনি এমনি বলা হয় না”।

বিজ্ঞাপন

জেলা পরিষদ মৌলভীবাজার এর প্যানেল চেয়ারম্যান এবং জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বদরুল ইসলাম বলেন “তিনি খুব ভাল এবং অনেক বড় মনের মানুষ। উনার এমন আচরণ উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে এমন মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন। ভবিষ্যতে উনি অনেক বড় হবেন আমরা এই দোয়া করি”।
জুড়ীর উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান নওয়াবাজার আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা লিয়াকত আলী খান সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “বিষয়টি শুনে খুব ভাল লাগল, শিক্ষকের প্রতি সবার মন মানসিকতা এমনই হওয়া উচিত। একজন শিক্ষক হিসাবে আজ গর্ব হচ্ছে এবং এটাই তো প্রকৃত শিক্ষা” বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিট টিএন খানম সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ আহমেদ জানান “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। এ মহতি সংবাদে আমরা শিক্ষকরা অতিশয় গর্বিত। শিক্ষক সমাজের প্রতি একজন অতিরিক্ত ডিআইজির এমনই সম্মান প্রর্দশন আবারো প্রমান করলো শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর, শিক্ষকরা সকল পেশার স্থপতি।

যেই শিক্ষকের সাথে এমন ঘটনা সেই জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতীশ চন্দ্র দাস এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “তিনি দেশের উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা হয়ে আমার প্রতি যে সম্মান প্রর্দশন করেছেন তাতে আমি একজন শিক্ষক হিসাবে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আজ আমি গর্বিত, আমি আপ্লুত, আমি আনন্দিত, কারন আমি একজন শিক্ষক। উনার মত এমন অফিসার বাংলাদেশ পুলিশে আছে বলেই আমরা নিরাপদে দেশে বসবাস করছি।

৭ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সিলেটের মিডিয়া উইংয়ের এএসআই পাবেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ” আমরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে আজ স্মার্ট বাংলাদেশের পথে। আমাদের মাননীয় অধিনায়ক মহোদয়, অতিরিক্ত ডিআইজি, খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম স্যারের মত সৎ, সাহসী, সদালাপী, নির্বিক, স্মার্ট অফিসার আছেন বলেই আমরা ২০৪১ সালের আগেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারব বলে বিশ্বাস করি। এমন মানবিক অফিসারের অধিনে চাকরী করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি, আজ আমরা গর্বিত।

উক্ত অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মফিজুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার, আসাবুর রহমান, জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, ওসি (তদন্ত) হুমায়ূন কবির, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মন্জুরে আলম লাল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক সমকাল প্রতিনিধি বেলাল হোসাইন, জুড়ী মানবিক সোসাইটির উপদেষ্টা ডাঃ নজরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত