শনিবার, মার্চ ২, ২০২৪

টুঙ্গিপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে হয়রানির আভিযোগ,

আপডেট:

মোঃ তপু শেখ গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম চুন্নুকে তারই সৎ ভাই সলিমুল্লা শেখ দীর্ঘ্য দিন যাবৎ এলাকার কিছু অসাধু মুরব্বিদের কুপরামর্শে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
সরেজমিনে গেলে জানা যায়, পাঁচ শতাংশ পৈতিক সূত্রে পাওয়া জায়গা নিয়ে এই দুই ভাইয়ের মাঝে বিরোধ চলে আসছে বহু বছর যাবৎ। তাছাড়া এই বীর মুক্তিযোদ্ধা এলাকার দুগ্রুপের দলাদলির শিকার। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সলিমুল্লাহ শেখের স্ত্রী এর মৃত্যু, এব্যপারে সমগ্র গিমাডাঙ্গা এলাকার সকলের অজানা নয়। স্ত্রীর লাশ নিয়েও চলছে এলাকার ঘৃনিত রাজনিতী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা জানা যায় সলিমুল্লা শেখ তার স্ত্রীকে নিয়ে থানায় যাওয়া বা আসার সময় টুঙ্গিপাড়া পাচঁকাহানিয়া এলাকায় রাস্তার উপর ড্রেজারে পাইপ ঢেকে রাখা বিটের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী বড় রকমের ঝাকি খেয়ে পড়ে গাছের সাথে বাড়ি খেয়ে মাথার পিছে বড় রকমের আঘাত পায়। সে জ্ঞান হারায় পরে যায় একটি ভ্যান ডেকে তাকে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে প্রেরন করেন। টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার রোগির আবস্থা খারাপ দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ প্রেরন করেন। দেখাযায় টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জেরুরী বিভাগের নথিতে রোড এক্সিডেন্ট উল্লেখ করা আছে। সলিমুল্লা তার স্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা গাজী মেডিকেলে নিয়ে যান। ওখানে রোগির অবস্থা খারাপ দেখে তাকে শেখ আবু নাছের হাসপাতালে প্রেরন করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে তার মৃতদেহ টুঙ্গিপাড়ার তার নিজ বাড়িতে এনে জানাজা সম্পর্ন করে করব দেওয়া হয়।তখনও সলিমুল্লাহ শেখের স্ত্রী এর মৃত্যু সড়ক দূর্ঘটনা হিসাবে ছিল। মৃত্যুর প্রায় ২ মাস পর শোনা যায়, সলিমুল্লার স্ত্রীকে তার সৎ ভাই ও তার জামাই মেরে ফেলেছে। এটা কি সম্ভব লাশ নিয়ে দলাদলি, রাজনীতি।এ ব্যপারে পূর্বে টুঙ্গিপাড়া থানায় কোন অভিযোগ বা লাশের ময়না তদন্ত নাই। আজ ২ মাস পর এটা কিভাবে হত্যা হয়।
এ ব্যপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম চুন্নু গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমি ৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীন করার জন্য। আমার বিরুদ্ধে আমার সৎ ভাই যে সকল চক্রান্ত করছে মাত্র পনে দুই কাঠা জায়গার জন্য তার সব টুকুই মিথ্যা ও বনোয়াট। সে পরের কথা শুনে ঘরে আগুন দিচ্ছে। সে আমার ঐ পোনে দুইকাঠা জমি ৩০ বছর যিাবৎ ভোক করছে, আমি তার বড় ভাই হিসাবে কিছুই বলি না।অপর দিকে সে আমাদের জায়গার গাছ কেঁটেছে, আমার গরুর ঘরের ময়লা ফেলার পাইপ কেটে দিয়েছে আমার মেয়েদের প্রতিনিয়ত অত্যাচার করছে, আজ ও আমার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী হত্যা মামলা দিয়ে আমাকে এই গ্রাম থেকে উৎখাত করতে চায়। একটা সড়ক ঘটনাকে হত্যা বনিয়ে আমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়ার জন্য গোপালগঞ্জ আদালতে হজির হয়েছে। সলিমুল্লার স্ত্রী নাদিরা আমার ছোট বোনের মত, সে যখন এক্সিডেন্টের শিকার হয়ে হাসপাতালে পড়ে ছিলো আমরা তাকে সাহায্যে করেছি। তার মৃত্যুর পর তার মরদেহে বাড়িতে এনে জানাজার মাধ্যমে কবর দিয়েছি। আজ আমাকে এতদিন পরে শুনতে হয় আমরা ওর স্ত্রীকে হত্যা করেছি। তিনি আরো বলেন, আমার ছোট ভাই সলিমুল্লা থানা থেকে ফেরার সময় পাঁচ কাহানিয়া এলাকার আলমগীরের ভাই জাহাঙ্গিরের মিলের সামনে রাস্তার উপরের দেওয়া ড্রেজারের পাইপ ঢাকা ভিটের সাথে মটর সাইকেল বাড়ি খেয়ে তার স্ত্রী ছিটকে পড়ে যায় এবং গাছের সাথে বাড়ি খেয়ে মাথার পিছরে বড় ধরনের আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারায়। এলাকাবাসীরা তাকে ধরাধরি করে ভ্যানে উঠাইয়া হাসপাতালে প্রেরন করে। ব্যপারটা ঐ এলাকার সকলে জানে। অথচ আমার ছোটভাই মামলায় উল্লেখ করেছে আমার বাড়ির পাশের ওহিদ গাজীর বাড়ির সামনের রাস্তার উপর তাকে বাড়ি মেরে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প। আমি একটা কথাই বলবো যেখানে সলিমুল্লা তার স্ত্রীকে নিয়ে এক্সিডেন্ট করেছে সেখানে গিয়ে তদন্ত করলেই সব ধরা খেয়ে যাবে। কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা । তিনি এটাও বলেন, তার স্ত্রীকে কবর দেওয়ার পূর্বে এলাকার কিছু লোক বলেছিল এ ব্যপারে তুমি কোন মামলা দিবা কিনা, তখন থানায় ফোন করা হয়েছিল, থানা থেকে বলেছিল লাশ থানায় আনেন আগে ময়না তদন্ত হবে তারপর মামলার ব্যপারটি দেখা যাবে। তখন সলিমুল্লা বলেছিল না আমার স্ত্রীকে ময়না তদন্ত করবো না আমি কোন মামলায় যাবোনা । করন সে জানে তার কারনেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর ব্যপারে থানায় কোন অপমৃত্যু বা কোন অভিযোগ নাই।এ ব্যপারে এলাকায় কোন বিচার সালিশি হয় নাই কারন সত্য ঘটনাটি কি তা সবাই জানে। আজ এতদিন পর এসে সে দাবী করছে তার বৌকে আমরা মেরে ফেলেছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা আমাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে গালাগাল করেছে, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করছে গোপালগঞ্জ আদালতে, আমি এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মুলক মামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি সেই সাথে তদন্ত সাপেক্ষে যারা আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তে সামিল আছে তাদের কে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত