শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪

গোপালগঞ্জে নিয়োগ বোর্ড থেকে পালালেন শুকতাইল ইউঃ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি (তনু)

আপডেট:

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

ঘটনাটি ঘটিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সুকতাইল ইউনিয়নের সুকতাইল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন তনু।
গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সুকতাইল ইউনিয়নের সুকতাইল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী পদের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরিক্ষায় বিদ্যালয়ের সভাপতি ইকবাল হোসেন তনু এর ফুপাতো ভাই নিয়োগ না পাওয়ায়, নিয়োগ বোর্ড থেকে নামাজের কথা বলে চুড়ান্ত নিয়োগ সিটে স্বাক্ষর না করে পালিয়ে যায়। আজো তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা । জানা যায় নিয়োগ প্রক্রিয়াটি শতভাগ ছচ্ছতার মাধ্যমে শেষ হয়। সভাপতির কারণে এখনও নিয়োগ দিতে পারছেনা পরিক্ষায় পাশ করা প্রার্থী সোহানুর শেখকে ।
গত ১৩ই সেপ্টেম্বর দুপুর তিনটার সময় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার এস,এম, মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে এই নিয়োগ পরিক্ষা ও মৌক্ষিক পরিক্ষার আয়েজন করা হয়। নিয়োগ পরিক্ষায় উপস্থত ছিলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার, ডিজি প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ এস,এম. মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক সুকতাইল ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শহিদুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন তনু, অভিভাবক সদস্য শেখ মফিজুর রহমান মফিজ। নিয়োগ
এ ব্যপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের আভিভাবক কমিটির সদস্য শেখ মফিজুর রহমান বলেন, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটার সময় গোপালগঞ্জ এস,এম মডেল স্কুলে লিখিত ও ভাইবা পরিক্ষার আয়োজন করে শিক্ষা কর্মকর্তা। সব কিছুই নিয়ম মাফিক ভাবে আনুষ্ঠিত হয়। ৯জন প্রার্থীর অংশগ্রহনে পরিক্ষায় সর্বচ্চো ৩৮.৮৮ নাম্বার পেয়ে প্রথম স্থান দখল করে নেন সাহানুর শেখ। নিয়ামানুযায়ী তাকে বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবার জন্য বোর্ডের সকলে সিদ্ধান্ত নেন। বোর্ডের সকলে নিয়োগ সিটে সাক্ষর করেন। শেষ প্রান্তে এসে সভাপতি নামাজের কথা বলে নিয়োগ সিটে সাক্ষর না করে পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, সভাপতি আমাকে বলেছিল আমার বাড়ির যায়গা নিয়ে সমস্যা চলছে, পরিক্ষায় আমার ফুপাতো ভাই মোঃ দিন ইসলাম অংশগ্রহন করছে, ওকে এই চাকরিটা দিতে পারলে তাদের ঐ যায়গাটা আমাকে দলিল করে দেবে। তুমি আমার পক্ষে থেকে সে যাতে চাকুরিটা পায় আমাকে সাহায্যে করো। তার কথায় আমি রাজি হই নাই। মূলত তার ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে নিয়োগ না পাওয়ায় সে স্বাক্ষর না করে মিথ্যা কথা বলে পলিয়েছে । সভাপতির চরিত্র সম্পর্কে আমারা আগে থেকেই অবহিত, তাই পরিক্ষার দিন সকালে আমরা গোপালগঞ্জ জেলা এডিসি শিক্ষাকে এই রকম ঘটনা ঘটতে পরে তা আগে থেকেই অভিহিত করেছিলাম। আজো তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই সভাপতির কারণে আমাদের বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তী নষ্ঠ হচ্ছে। আমরা সভাপতি ইকবাল হোসেন তনুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
এ ব্যপারে বিদ্যালয়ের সভাপতির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। মৌখিক পরিক্ষায় কয়েকজন প্রার্থী কে ডাকা হয় নাই। তাই আমি সাক্ষর না করে বের হয়ে গেছি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সেলিম তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রকৃয়ায় কোন দূর্নীতি হয় নাই, সবকিছুই নিয়োম মাফিক ভাবে সম্পর্ন হয়েছে। তবে ৯ জন প্রার্থীর মাঝে যাদের কাগজাদী ঠিক ছিল না তাদেরকে মৌখিক পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেওয়া হয় নাই। সভাপতির পছন্দের প্রার্থী চাকরিটা না পাওয়ায় চুড়ান্ত নিয়োগ সিটে সাক্ষর না করে, বারান্দায় যাওয়ার কথা বলে চলে গেছে। তবে যে প্রার্থী প্রথম হয়েছে তাকেই বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য আমরা সুপারিশ করে দিয়েছি।
এলাকা বাসীর ও বিদ্যালয়ের সকল অভিভাবকরো এ বিষয়ে মতামত প্রদান করেন যে, নৈশ প্রহরী পদে যে ব্যক্তি সকল পরিক্ষায় পাশ করে প্রথম স্থান অধীকার করেছেন, তাকেই যোগদান দেওয়া হোক সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়াই। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের উপরোক্ত কর্মকর্তাদের দৃষ্টিকর্ষন করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত