বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস পালিত

আপডেট:

মোঃ তপু শেখ গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

 

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন গোপালগঞ্জ জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধারা। শ্রদ্ধাঞ্জলী শেষে মুক্তিযোদ্ধা কম্পেলেক্স অডিটোরিয়ামে মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করেন তারা। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক এর পক্ষে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহসীন উদ্দিন। এসময় বক্তব্য রাখেন সাবেক গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম বদরুদ্দোজা বদর, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লৎফার রহমান বাচ্চু, বীর মুক্তি যোদ্ধা আমজাদ হোসেন, বেগম রোকেয়া শিরিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাখায়েত হোসেন মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, মাহাবুব কাজী সহ প্রায় দুই শতাধীক জেলার মুক্তিযোদ্ধারা। আজ গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ জেলা গোপালগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়।
আজ গোপালগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গৌরবের দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে গোপালগঞ্জ শহর পাকিন্তানি হানাদার মুক্ত হয়েছিল। এই দিনে সূর্য ওঠার সাথে-সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে-দলে বিভক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করেন। হাতে তাদের উদ্যত রাইফেল ও বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত রক্তলাল সূর্য সম্বলিত গাঢ় সবুজ জমিনের পতাকা। মুখে বিজয়ের হাসি। চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ বলয় রচিত হওয়ার খবর পেয়ে পাকিস্তানি সেনারা গোপালগঞ্জ সদর থানা পরিষদ সংলগ্ন জয়বাংলা পুকুর পাড়ের মিনি ক্যান্টনমেন্ট (বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়) ছেড়ে পালিয়ে যায়। মেজর সেলিমের অধীনে হানাদার বাহিনীর একটি দল ঢাকা ও অন্য একটি দল কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়ার ওয়ারলেস ক্যান্টনমেন্টে চলে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এ দিন তাই পরম পাওয়ার একটি দিন। শত দুঃখ-কষ্ট ও আত্মত্যাগের পর বিজয়ের আনন্দঘন এক মুহুর্ত। পাক সেনারা শহর ছেড়ে পালিয়েছে আর মুক্তিযোদ্ধারা শহরের দিকে আসছে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তিকামী জনতার মনে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে শহরের মুক্তিকামী মানুষ বেরিয়ে আসেন। সূর্যোদয়ের মতো আভা ছড়িয়ে বিস্তৃত করেছিল দিগদিগন্ত। শহরবাসী মেতে উঠেছিল অসীম আনন্দ উৎসবে।
গোপালগঞ্জ মুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান আজো অম্লান হয়ে আছে। আজো এসব বীর সেনানীর মনে শ্রেষ্ঠ স্মৃতি ও উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছে এই মুক্তিযুদ্ধ।
শহর হানাদার মুক্ত দিবস এলেই মুক্তিযুদ্ধের এ বীর সৈনিকেরা মুখর হয়ে ওঠেন স্মৃতিচারণায়। ফিরে যান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় দিনগুলোতে। রনাঙ্গনের সেই ভয়াল স্মৃতি, যুদ্ধদিনের বিবরণ ও গৌরবময় বীরত্বগাথা স্মরণ করে হয়ে ওঠেন গর্বিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত